ইউনূসের মতো অযোগ্য ও বাটপার শাসক হাজার বছরেও আসেনি’: কারামুক্ত আনিস আলমগীর

ঢাকা — কারামুক্ত সাংবাদিক ও কলামিস্ট আনিস আলমগীর বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেন, তার শাসনামলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাকে কোনো সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়াই মাসের পর মাস কারাবন্দি থাকতে হয়েছে।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাসুদ কামাল-এর ‘অন্য মঞ্চ’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনিস আলমগীর তার জেলজীবনের অভিজ্ঞতা ও দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।

তিনি অভিযোগ করেন, জিম থেকে তুলে নিয়ে তাকে ২৪ ঘণ্টা ডিবি অফিসে আটক রাখা হয় এবং পরে একটি টেলিভিশন টকশোর ভাইরাল ক্লিপ ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে মামলা সাজানো হয়। তার দাবি, পুলিশ কমিশনার ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সরাসরি নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

কারাগারের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, কেরানীগঞ্জ ও কাশিমপুর কারাগারে তাকে কঠিন ও অমানবিক পরিবেশে রাখা হয়। প্রথম এক মাস ‘নন-ডিভিশন’ এলাকায় থেকে তাকে চরম কষ্ট ও নির্জনতার মধ্যে সময় কাটাতে হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর নতুন সরকারের হস্তক্ষেপে তিনি মুক্তি পান বলে জানান তিনি।

ড. ইউনূসের সমালোচনা করে আনিস আলমগীর নানা অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন, সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনস্বার্থের পরিবর্তে ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম সৃষ্টি হয়েছে।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল-এর সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিচারব্যবস্থায় অস্বাস্থ্যকর চর্চা তৈরি হয়েছে, যেখানে জামিন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিচার শেষ হওয়ার আগেই দীর্ঘদিন মানুষকে কারাগারে থাকতে হচ্ছে।

রাজনৈতিক প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে সতর্ক করে বলেন, দলের ভেতরে থাকা গোপন চক্র চিহ্নিত না করলে ভবিষ্যতে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, গ্রেপ্তারের সময় তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ‘নিহারী’ খাওয়ার ছবি নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি তার ব্যক্তিগত অভ্যাসের অংশ, কোনো বিশেষ উদযাপন নয়।

সবশেষে তিনি নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে বিনা বিচারে আটক থাকা সাধারণ বন্দিদের দ্রুত জামিন নিশ্চিত করা হয়। তিনি বলেন, সাংবাদিকরা ক্ষমতা দখল করতে নয়, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

spot_img