শেখ হাসিনা
বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা হিসেবে রাজনীতি আমার জীবনের অজান্তে জড়িয়ে থাকা এক অনিবার্য বাস্তবতা ছিল। ছোটবেলা থেকেই রাজনীতি ছিল আমাদের নিত্যদিনের আলোচনার বিষয়। প্রতিদিন সকালে আমরা বাবার সঙ্গে বসে পত্রিকা পড়তাম, দেশ-বিদেশের খবর জানতাম এবং সেগুলো নিয়ে আলোচনা করতাম।
বাবা যখন গ্রামে যেতেন, তখন তিনি আমাদের চোখে দেখিয়ে দিতেন—কত মানুষ জীবনের মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত। তিনি বলতেন, “এই বাস্তবতা বদলাতে হবে।” তাঁর সেই পরিবর্তনের স্বপ্ন আজও আমার পথনির্দেশ।
১৯৭১ সালে, পাকিস্তানের দমননীতি ও পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর নৃশংসতার বিরুদ্ধে তিনি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর শূন্য থেকে একটি রাষ্ট্র গড়তে হয়েছিল তাঁকে।
বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন সমাজতান্ত্রিক গণতন্ত্রী, যিনি বাংলাদেশকে কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষের নিজের উন্নতির সম্ভাবনা অসীম। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল ১০০ ডলারের নিচে, মাত্র তিন বছরের মধ্যে সেটি বেড়ে হয় ২৫০ ডলারের বেশি।
কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ড আমাদের দেশকে এক অন্ধকার যুগে ঠেলে দেয়। সামরিক একনায়কতন্ত্র ফিরে আসে, দেশ আবার পিছিয়ে যায়। আজ আবার সেই ছায়া ফিরে এসেছে—একটি অবৈধ সরকার, যারা “বিচার” নামের ছদ্মবেশে আমাকে মিথ্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে তাড়া করছে।
আমি আগেও অবৈধ শাসকদের মুখোমুখি হয়েছি। বাবার মৃত্যুর পর আমাকে নির্বাসিত হতে হয়েছিল, কিন্তু ১৯৮০–এর দশকে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নেই। তখন দেশের সবচেয়ে বড় সংকট ছিল জনগণের প্রতিনিধিত্বহীনতা। আমি ঠিক করেছিলাম—মানুষের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে। কারণ আমি বিশ্বাস করি—যে দেশে জনগণের প্রতিনিধিত্ব নেই, সে দেশ এগোতে পারে না। ১৯৯০–এর দশকে গণআন্দোলনের মাধ্যমে আমরা সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনি—এটাই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন।
রাষ্ট্রের কাজ হলো মানুষের সেবা করা। আওয়ামী লীগ সবসময়ই জনগণের দল—গ্রামের মাটি থেকে উঠে আসা, মানুষের কণ্ঠের প্রতিধ্বনি। ১৯৮০–এর দশকে একজন তরুণ রাজনীতিক হিসেবে আমি মানুষের কাছে গিয়েছি, তাদের বাস্তব জীবন, কষ্ট ও সংগ্রামের গল্প শুনেছি।
বছরের পর বছর আমরা বাংলাদেশকে বদলে দিয়েছি। ক্ষমতায় আসার সময় দেশের অর্থনীতি দুর্বল, মানুষের আশা ক্ষীণ, অবকাঠামো ছিল পিছিয়ে। আমরা শৃঙ্খলা, কর্মনিষ্ঠা ও অদম্য মনোবল দিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বের দ্রুততম প্রবৃদ্ধির দেশের কাতারে তুলেছিলাম।
টানা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ শতাংশের কাছাকাছি। মাথাপিছু আয় বেড়েছে, কোটি মানুষ দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেয়েছে। জিডিপি ৪৭ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলারে—বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৫ বৃহত্তম অর্থনীতির একটিতে পরিণত হয়।
তবে এর কৃতিত্ব রাজনীতিবিদদের নয়, সাধারণ মানুষদের। ভুল ছিল, কিছু অব্যবস্থাও ঘটেছে—কিন্তু সামগ্রিকভাবে দেশ এগোচ্ছিল। নারীরা কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করেছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে, অবকাঠামো উন্নত হয়েছে। আমরা নিশ্চিত করেছি—প্রত্যেক ঘরে বিদ্যুৎ, ভালো সড়ক, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি।
কিন্তু আজ সেই অর্জনগুলো ঝুঁকিতে। রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়েছে, রিজার্ভে চাপ সৃষ্টি করেছে, কারখানা বন্ধ হচ্ছে, শ্রমজীবী পরিবারগুলো বিপর্যস্ত।
বাংলাদেশের শহর ও গ্রামের রাস্তায় আজ প্রতিদিন ঘটে যাচ্ছে নারকীয় সহিংসতা—নারী, শিশু, সংখ্যালঘু, আওয়ামী লীগ কর্মী—কেউই নিরাপদ নয়। একসময় যে দেশ ছিল ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও মানবতার প্রতীক, সেখানে আজ উগ্রতা ও বিভাজন ছড়িয়ে পড়েছে।
আমরা সেক্যুলার ও উদার মূল্যবোধে বিশ্বাসী ছিলাম। আমাদের সংবিধানে যেমন সবার সমান অধিকারের নিশ্চয়তা ছিল, তেমনি আন্তর্জাতিক পরিসরেও আমরা মানবাধিকারের পক্ষে দাঁড়িয়েছি। আমরা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছি, যখন অন্যরা তাদের ফিরিয়ে দিয়েছিল।
কিন্তু আজ সেই মানবিক বাংলাদেশ ধ্বংস হচ্ছে। গত বছর সহিংস উত্থানের পর প্রতিষ্ঠিত তথাকথিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখন দেশে দমননীতি চালাচ্ছে। নামমাত্র প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস—যিনি অর্থনীতিবিদ হিসেবে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত, কিন্তু রাজনীতিতে শূন্য অভিজ্ঞতার অধিকারী।
তাঁর এই সরকার অবৈধ—কোনো গণভোট নেই, কোনো নির্বাচিত ম্যান্ডেট নেই। আমি তাঁকে সর্বোচ্চ সৌজন্য দেখিয়ে বলব—তিনি একজন চিন্তাবিদ হতে পারেন, কিন্তু তিনি কোনো রাষ্ট্রনায়ক নন।
জনগণের চোখে তাঁর অদক্ষতা এখন স্পষ্ট। দেশে শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে, প্রশাসন দুর্বল, বিচারহীনতা চরম। বাস্তবে তিনিই দেশ চালাচ্ছেন না—চালাচ্ছে ধর্মান্ধ গোষ্ঠী। হিযবুত তাহরীরসহ নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এরা সেই একই চরমপন্থী দল, যারা ২০১৬ সালের গুলশানের হলি আর্টিজান ক্যাফেতে রক্তক্ষয়ী হামলা চালিয়েছিল—যাদের নির্মূল করতে আমরা জীবন বাজি রেখেছিলাম। এখন খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, অগ্নিসংযোগ প্রতিদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
ইউনুস সরকারের প্রথম মাসগুলোতেই হাজারো হামলা হয়েছে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ওপর। এখনো প্রতিসপ্তাহে খবর আসে মন্দির, গির্জা, উপাসনালয় ভাঙচুরের। আইন ও সালিশ কেন্দ্র জানিয়েছে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে ভয়াবহভাবে—মাত্র ছয় মাসে ৪৪১টি ধর্ষণের অভিযোগ, যেখানে ২০২৪ সালে পুরো বছরে ছিল ৪০১টি।
এটাই আজকের বাংলাদেশের ভয়াবহ বাস্তবতা। যে দেশ একসময় উন্নয়নের দৃষ্টান্ত ছিল, আজ সে দেশ আবার ধ্বংসের পথে।
বাংলাদেশ তরুণ একটি দেশ—পঞ্চাশ বছরের ইতিহাসে আমরা সামরিক শাসন, যুদ্ধ ও সংকট কাটিয়ে গণতন্ত্রে ফিরেছি বারবার। কিন্তু আজ আবার সেই গণতন্ত্র বিপন্ন। প্রশাসন ভেঙে পড়ছে, অর্থনীতি থমকে আছে, আইনের শাসন হারিয়ে গেছে।
আমার জীবনের আদর্শ সবসময় ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন—রাষ্ট্র মানুষের কাছে জবাবদিহি করবে, জনগণের কণ্ঠই হবে শাসনের ভিত্তি। আমার সরকার সবসময় বাংলাদেশের বাস্তবতা বিবেচনায় নীতি গ্রহণ করেছে। আমরা কখনো অন্ধভাবে পশ্চিমা মডেল অনুসরণ করিনি, বরং নিজস্ব পথ খুঁজেছি।
আমরা বিশ্বে আমাদের মর্যাদার জায়গা তৈরি করেছিলাম—পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক দৃঢ় করেছি, ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব রক্ষা করেছি। ভারত আমাদের সবচেয়ে পুরনো ও বিশ্বস্ত বন্ধু, মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে আজ পর্যন্ত এই বন্ধন অটুট।
কিন্তু আজ বাংলাদেশ এমন এক দলে-নেতাবিহীন শাসনের অধীনে, যারা দেশকে ভাগাভাগি করে নিচ্ছে। তারা গণতন্ত্রের নাম নিচ্ছে, কিন্তু গণতন্ত্র চায় না। দেশের জনগণ এখন মুক্ত ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য চিৎকার করছে—যেখানে আওয়ামী লীগের মতো গণভিত্তিক রাজনৈতিক দলকে বাদ দেওয়া হবে না।
বাংলাদেশকে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ঐতিহ্য গড়ে তুলতে হবে। ২০০৬–০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিএনপির ছত্রছায়ায় নির্বাচনী তালিকা জাল করেছিল, ২০১৪ সালের সহিংসতা ভোটকে অবিশ্বাসের মধ্যে ফেলেছিল, ২০২৪ সালে আবারও প্রধান বিরোধী দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করা হয়েছে—এভাবে জনগণের আস্থা বারবার ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
গণতন্ত্র তখনই টিকে থাকবে, যখন দেশের নেতৃত্ব জনগণের ভোটে নির্ধারিত হবে। কোনো “চার্টার” বা “সংস্কার কমিশন” দিয়ে জনগণের অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না। জনগণের কণ্ঠই চূড়ান্ত কথা।
আজ নিরপরাধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা গায়েবি মামলায় বন্দি, শত শত মানুষ কারাগারে, দুই শতাধিক নেতা-কর্মী হেফাজতে নিহত। আমাদের স্বাধীনতার গৌরবগাঁথা আজ কারও কারও চোখে অপরাধে পরিণত হয়েছে।
যদি আগামী নির্বাচন আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে হয়, তবে সেটি হবে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের মৃত্যু ঘোষণা। জাতিসংঘও ইতিমধ্যে সতর্ক করেছে—কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা মানে গণতন্ত্রের ভিত্তি নষ্ট করা এবং কোটি ভোটারের কণ্ঠ রোধ করা।
একইভাবে গণমাধ্যম আজ সরকারের প্রতিশোধমূলক হামলার লক্ষ্যবস্তু। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা হত্যা মামলা, লাইসেন্স স্থগিত, হয়রানি—সব চলছে। বিচারব্যবস্থা পরিণত হয়েছে নিছক প্রহসনে। অভিজ্ঞ বিচারকরা পদত্যাগে বাধ্য হচ্ছেন, আদালত থেকে ন্যায়বিচার উধাও।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আজ রাজনৈতিক হাতিয়ার। আইনজীবীদের ভয় দেখানো হচ্ছে, বিচারকদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, আওয়ামী লীগ–সমর্থিত আইনজীবীদের আইনচর্চা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। ১৮ জন উচ্চ আদালতের বিচারপতি পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন।
এই আদালত এখন আর ন্যায়বিচারের প্রতীক নয়; এটি কেবল রাজনৈতিক প্রতিশোধের উপায়। ইউনুস প্রশাসন সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার করে ট্রাইব্যুনালকে এমন ক্ষমতা দিয়েছে যে, কোনো রাজনৈতিক দলকে “অপরাধে জড়িত মনে হলে” তা নিষিদ্ধ করা যাবে।
এই বিচার প্রহসন গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে বিচার করার নৈতিক বা আইনি অধিকার এই অবৈধ সরকারের নেই। আন্তর্জাতিক সমাজকে বুঝতে হবে—এটি কোনো বিচার নয়, এটি নির্বাচিত সরকারের পতনকে বৈধতা দেওয়ার কৌশল।
আমাদের বিরুদ্ধে যে মামলা চলছে, তা কোনো নোটিশ ছাড়াই, পক্ষপাতদুষ্ট প্রসিকিউশনের হাতে পরিচালিত, যেখানে গোপন প্রমাণ গণমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি যিনি প্রথমে আমার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন, তিনি কিছুদিন আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছিলেন।
এই “আন্তর্জাতিক” ট্রাইব্যুনাল কেবল আওয়ামী লীগ নেতাদেরই অভিযুক্ত করছে—বর্তমান সরকারের ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলোর অপরাধ, সংখ্যালঘু ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা, পুলিশ হত্যার মতো অপরাধগুলোর কোনো তদন্তই করছে না। অপরাধীরা নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াচ্ছে, ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত।
২০২৪ সালের গ্রীষ্মে যে সংঘর্ষ ও সহিংসতায় অনেক জীবন হারিয়েছে, আমি প্রতিটি প্রাণহানিতে শোক প্রকাশ করছি। সত্যি বলতে, নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সদস্য শৃঙ্খলা ভেঙেছিল, কিন্তু পুরো ঘটনাকে সরকার-পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ হিসেবে উপস্থাপন করা সম্পূর্ণ ভুল। আমি ব্যক্তিগতভাবে নির্দেশ দিয়েছিলাম যেন কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার না হয়।
আমরা তদন্ত কমিশন গঠন করেছিলাম, কিন্তু ইউনুস সরকার ক্ষমতা দখলের পর সেটি বাতিল করে দেয়। জাতিসংঘকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল পর্যবেক্ষণের জন্য।
আজও আমরা চাই, একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হোক—শুধু ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট নয়, বরং পরবর্তী সময়েরও। সেই সহিংসতায় শুধু আওয়ামী লীগ নয়, পুলিশ, ধর্মীয় সংখ্যালঘু, সাধারণ মানুষ সবাই ছিল টার্গেটে।
বাংলাদেশ একটি মহান দেশ—গৌরবময় ইতিহাস নিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি। আমরা গণহত্যা কাটিয়ে উঠেছি, সামরিক শাসন প্রতিরোধ করেছি, এবং প্রতিটি বিপর্যয়ের পর আবার গণতন্ত্রে ফিরেছি।
আজও আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশ আবার ফিরে আসবে সত্যিকারের গণতন্ত্রে—যেখানে নারীরা, সংখ্যালঘুরা, তরুণরা সবাই সমান অধিকার পাবে; যেখানে সহিংসতা ও ঘৃণার রাজনীতি নয়, মানবতা ও উন্নয়ন হবে ভিত্তি। আমি প্রার্থনা করি—আমার দেশ আবারও সেই পথে ফিরে যাক, যে পথ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের দেখিয়েছিলেন।
লেখক: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রে ক্ষমতাচ্যুত নির্বাসিত)
কৃতজ্ঞতা: লেখাটি নিউজ উইকে ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত। ভয়েসের পাঠকদের জন্য বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে।

