বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আফগানিস্তানের বিপক্ষে শারজাহতে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে নিয়েছে। শুক্রবার রাতের দ্বিতীয় ম্যাচে রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে টাইগাররা দুই উইকেট হাতে রেখে জয় ছিনিয়ে নেয় এবং সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
শারজাহতে টানটান লড়াই
১৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা একেবারেই ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ইনিংসের পঞ্চম ওভারেই স্কোরবোর্ডে মাত্র ২৪ রান ওঠার পর তিন উইকেট হারিয়ে বসে তারা। আফগান পেসার আজমতউল্লাহ ওমরজাই দ্রুত দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে দেন, এরপর সাইফ হাসানকেও মুজিব উর রহমানের বলে বিদায় নিতে হয়।
সংকট মুহূর্তে দায়িত্ব কাঁধে নেন অধিনায়ক জাকের আলি আর তরুণ শামীম হোসেন। দুজনের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ৩৭ বলে আসে ৫৬ রানের জুটি। শামীম খেলেন ২২ বলে ৩৩ রানের ইনিংস, আর জাকের করেন ২৫ বলে ৩২। তবে জাকেরকে এলবিডব্লিউ করে ফেরান রশিদ খান, আর শামীমের ব্যর্থ রিভার্স সুইপে উইকেট হারালে আবারও চাপ বাড়ে।
এরপর ভরসা হয়ে ওঠেন নুরুল হাসান। তিনি এক প্রান্ত আগলে রেখে ২১ বলে অপরাজিত ৩১ রান করেন। কিন্তু মাঝপথে নাসুম আহমেদ, সাইফউদ্দিন আর রিশাদ হোসেন দ্রুত আউট হলে শেষ দিকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আবার আফগানিস্তানের দিকে হেলে পড়ে। শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৯ রান, হাতে মাত্র দুই উইকেট।
সেখানেই নুরুল হাসান প্রথম বলে ছক্কা হাঁকিয়ে চাপ কমান। এরপর শরিফুল ইসলাম শান্ত স্নায়ুতে খেলেন দুটি দুর্দান্ত বাউন্ডারি এবং শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করা শটে ম্যাচ শেষ করেন। বাংলাদেশ ইনিংস থামে ১৯.১ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫০ রানে।
আফগান ব্যাটিংয়ে মাঝের ওভারেই ভাটা
এর আগে ব্যাট করতে নেমে আফগানিস্তান শুরুটা ভালোই করেছিল। সাদিকুল্লাহ আতাল (১৯ বলে ২৩) আর ইব্রাহিম জাদরান (৩৭ বলে ৩৮) প্রথম উইকেটে তুলেছিলেন ৫৫ রান। কিন্তু এরপর মাঝের ওভারগুলোতে তারা রান তুলতে হিমশিম খায়।
গুরবাজ কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন ২২ বলে ৩০ রানের ইনিংস খেলে। শেষ দিকে ওমরজাই (১৯) আর অভিজ্ঞ মোহাম্মদ নবী (১২ বলে অপরাজিত ২০) ইনিংসে কিছুটা গতি আনেন। ফলে নির্ধারিত ২০ ওভারে আফগানিস্তান থামে ৫ উইকেটে ১৪৭ রানে।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে কৃপণ ছিলেন শরিফুল ইসলাম। তিনি ৪ ওভারে মাত্র ১৩ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন এবং ম্যাচসেরা হন। নাসুম আহমেদ ২ উইকেট নিয়ে দারুণ বোলিং করেন, যদিও রিশাদ হোসেন কিছুটা খরুচে হয়ে ২-৪৫ নেন।
সিরিজ নিশ্চিত, এখন সামনে হোয়াইটওয়াশের লক্ষ্য
প্রথম ম্যাচে চার উইকেটে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও দুই উইকেটের শ্বাসরুদ্ধকর জয় বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। ইতোমধ্যেই সিরিজ তাদের দখলে, তবে আগামী ৫ অক্টোবর শারজাহতেই হবে শেষ ম্যাচ। আফগানিস্তানের জন্য সেটি মর্যাদা রক্ষার লড়াই, আর বাংলাদেশের জন্য লক্ষ্য হতে পারে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ।
এই সিরিজকে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বিশ্বকাপ প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই দেখছে। আফগানিস্তানও একইভাবে নিজেদের শক্তি-দুর্বলতা যাচাই করছে। তবে দুই ম্যাচের ফলাফলে স্পষ্ট, বাংলাদেশের মধ্য-ক্রম আর বোলিং আক্রমণ আফগানিস্তানের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর হয়ে উঠেছে।

