জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের (UNHRC) ৬০তম অধিবেশনের আলোচনায় দক্ষিণ এশিয়ার দুটি দেশ—বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইউরোপীয় আইনপ্রণেতা ও মানবাধিকার কর্মীরা। বিশেষ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন, নারীর অধিকার খর্ব হওয়া এবং চরমপন্থার উত্থান নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছে।
এরিক সেল্লের বক্তব্য: বাংলাদেশে চরমপন্থার শঙ্কা
নরওয়ের খ্রিস্টান কনজারভেটিভ পার্টির নেতা এরিক সেল্লে, যিনি শৈশব ও কর্মজীবনের একটি অংশ বাংলাদেশে কাটিয়েছেন, বলেন, “আমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি। কিন্তু গত এক বছরে যেভাবে পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেছে, তা আমাকে ভেঙে দিয়েছে। বর্তমানে মুহাম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারকে আমি অনুরোধ জানাই—দেশকে নিয়ন্ত্রণে নিন, চরমপন্থীদের থামান।”
তিনি আরও বলেন, “আমি বাংলাদেশে গ্রামীণ নারীদের ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান নিয়ে কাজ করেছি। নারীরা যখন আয়ের সুযোগ পান, তখন পরিবার দারিদ্র্য থেকে বের হয়ে আসে। এ কারণে নারীর অধিকার সুরক্ষা এবং চরমপন্থা দমন এখন জরুরি।”
সেল্লে বাংলাদেশের হিন্দু ও খ্রিস্টানদের ওপর নির্যাতনের বিষয়েও উদ্বেগ জানান এবং পাশাপাশি পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে নারীদের ওপর সহিংসতা ও নিপীড়নের কঠোর সমালোচনা করেন। জাতিসংঘের নির্লিপ্ত ভূমিকারও সমালোচনা করেন তিনি।
ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যদের উদ্বেগ
এই আলোচনাসভা আয়োজন করে ইন্টারন্যাশনাল সাপোর্ট ফর হিউম্যান রাইটস এবং ইতালিয়া চে কামবিয়া।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য আন্না মারিয়া চিসিন্ত বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে ইতালিতে আসা বহু নারী আজও নিপীড়িত। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক অভিবাসী নারীকে তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বোরকা পরতে বাধ্য করা হয়।
মানবাধিকারকর্মী ফাবিয়া চেস্টেল্লি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে নারীর অধিকার, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও শিশুর সুরক্ষার বিষয়টি অগ্রাধিকারে আনা।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অপসারণের পর থেকে মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। দেশে ও আন্তর্জাতিক মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে, এই সময়ে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও নিপীড়ন বেড়েছে এবং প্রশাসনে ইসলামপন্থীদের প্রভাব বাড়ছে।
অন্যদিকে পাকিস্তানে বেলুচিস্তান অঞ্চলে নিখোঁজ হওয়া, নারীর প্রতি সহিংসতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমনের ঘটনা বারবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচিত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক চাপের আহ্বান
আলোচনার শেষে বক্তারা একবাক্যে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এখনই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে নারীর অধিকার, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং শিশুদের সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

