জাতিসংঘ অধিবেশনে পাকিস্তান-বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ায় গুম-হত্যার অভিযোগ তুলে পাকিস্তানের সমালোচনা, পাশাপাশি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তাহীনতার প্রসঙ্গ আলোচনায়।

মানবাধিকার কর্মী ও এশিয়ান হিউম্যান রাইটস ফোরাম (এএইচআরএফ)-এর নির্বাহী পরিচালক আরিফ আজাকিয়া জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের (ইউএনএইচআরসি) ৬০তম অধিবেশনে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জেনেভায় দেওয়া তার বক্তব্যে তিনি দুই দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তাহীনতা ও রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার অভাবের বিষয়টি তুলে ধরেন।

পাকিস্তানে গুম, হত্যাকাণ্ড ও দমননীতি

আজাকিয়া অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ায় দীর্ঘদিন ধরে সামরিক অভিযান চলছে। এসব অভিযানে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে। হাজার হাজার বেলুচ ও পশতুন নাগরিক রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

তার ভাষায়, “প্রায়ই গণকবর থেকে নিখোঁজদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বেলুচ নারী ও শিশুরা তাদের স্বজনদের খুঁজে বের করতে বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করছে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় বাহিনী তাদের ওপর লাঠিচার্জ করছে, গ্রেপ্তার করছে। ডা. মাহরাং বেলুচসহ অনেককে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আটকে রাখা হয়েছে।”

নতুন আইন নিয়ে সমালোচনা

পাকিস্তানে সম্প্রতি প্রবর্তিত একটি অস্থায়ী আদেশের কথাও উল্লেখ করেন আজাকিয়া। এ আইন অনুযায়ী, কাউকে আদালতে হাজির না করেই নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ ৯০ দিন আটক রাখতে পারে। তিনি বলেন, এই বিধান আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তির পরিপন্থী, যার স্বাক্ষরকারী দেশ পাকিস্তান নিজেই।

আজাকিয়া জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলকে আহ্বান জানান পাকিস্তানকে মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে বাধ্য করার জন্য। একইসঙ্গে বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ায় জাতিসংঘের একটি সত্য-অনুসন্ধানী মিশন পাঠানোর দাবি জানান, যাতে নিরপেক্ষভাবে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা যায়।

বাংলাদেশের পরিস্থিতিও আলোচনায়

যদিও তার বক্তব্যে পাকিস্তানকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, বাংলাদেশ প্রসঙ্গেও তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চলমান বৈষম্য ও নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করেন। ধর্মীয় উৎসব ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় সংখ্যালঘুরা প্রায়ই সহিংসতার শিকার হন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো মনে করছে, দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রমেই মানবাধিকার পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে। ভিন্নমত দমন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং সংখ্যালঘুদের টার্গেট করার প্রবণতা বাড়ছে।

 

spot_img