ব্যাংকক/পনমপেন, ২৮ জুলাই ২০২৫ —
যুদ্ধবিরতির আলোচনায় দুই দেশের সম্মতির ঘোষণা আসার একদিন পরও থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। আজ রোববার টানা চতুর্থ দিনের মতো পাল্টাপাল্টি গোলা বর্ষণের ঘটনা ঘটে বিরোধপূর্ণ সীমান্ত এলাকায়। সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ৩২ জন নিহত এবং অন্তত ১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
ভোরে ফের সংঘর্ষ, গোলাগুলির আওয়াজে কেঁপে ওঠে সামরাং
কম্বোডিয়ার সামরাং শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের সংঘর্ষস্থল থেকে সকাল থেকেই গোলাগুলির শব্দ শুনেছেন সাংবাদিকরা। কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানান, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে দুটি বিরোধপূর্ণ মন্দিরের আশপাশে গোলাগুলি শুরু হয়।
ট্রাম্পের মধ্যস্থতা ও নেতাদের প্রতিক্রিয়া
এর আগে শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার নেতাদের সঙ্গে আলাপ করেছেন এবং উভয়পক্ষ যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে। স্কটল্যান্ড সফরের সময় নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “এই মাত্র থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি। দুই পক্ষই শান্তিপূর্ণ সমাধানে আগ্রহী।”
এর প্রতিক্রিয়ায় কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত বলেন, “আমরা যুদ্ধবিরতির আলোচনায় আগ্রহী, তবে থাই পক্ষ যেন চুক্তি ভঙ্গ না করে—সে বিষয়ে আমরা সতর্ক।” তিনি জানান, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে সমন্বয় করে থাই সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচাইয়াচাইও এক ফেসবুক পোস্টে জানান, “আমরা নীতিগতভাবে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত। তবে আমরা কম্বোডিয়ার পক্ষ থেকে আন্তরিকতা প্রত্যাশা করি।” তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানান।
জাতিসংঘের উদ্বেগ ও মানবিক সংকট
শুক্রবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কম্বোডিয়ার রাষ্ট্রদূত চেয়া কেও অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান। সংঘর্ষে দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় মানবিক পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী, বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৭৫ হাজার ছাড়িয়েছে, যাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু।
ঐতিহাসিক বিতর্ক ও মন্দির ঘিরে উত্তেজনা
থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যকার সীমান্ত বিরোধ শত বছরের পুরোনো। মূলত ঐতিহাসিক একাধিক হিন্দু মন্দিরকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে এই টানাপোড়েন। ২০২৫ সালের মে মাসে উত্তেজনা আবারও মাথাচাড়া দেয়, যার ফলশ্রুতিতে গত বৃহস্পতিবার থেকে গোলা বর্ষণ শুরু হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংঘাত যদি অব্যাহত থাকে, তবে কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কই নয়, গোটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে।

