ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) শনিবার তেহরানের অফিসে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও ইরানি রাষ্ট্রীয় বার্তায় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সামরিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
ইরান স্বরাষ্ট্রীয় রাষ্ট্র টেলিভিশন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ মাধ্যমগুলো রবিবার জানিয়েছে, তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় খামেনি তার অফিসে ছিলেন এবং তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। ইরানি সরকার ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করেছে এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে।
হামলা এবং তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং লিখেছেন, “খামেনি ইতিহাসের অন্যতম নোংরা ব্যক্তিত্ব ছিলেন এবং তিনি আর নেই; আমাদের আদর্শ ছিলো আমেরিকান জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”
এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছিলেন যে হামলার পর “বিভিন্ন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে খামেনি আর জীবিত নেই।”
ইরানের স্বরাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে খামেনির পাশাপাশি তার পরিবারের কিছু সদস্যও হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রতিশোধ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা
খামেনির মৃত্যুর কিছু সময় পরই ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলো জানিয়েছে। হামলায় ইসরায়েলি ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে হতাহতের খবরও পাওয়া গেছে।
ইরানি কেবিনেট প্রাপ্ত এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, “এই ভয়াবহ অপরাধ কখনো উত্তরহীন থাকবে না।”
যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিভিন্ন দেশে মার্কিন দূতাবাসগুলোতে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে এবং নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খামেনির রাজনৈতিক দায়িত্ব ও উত্তরাধিকারের প্রশ্ন
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিশেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি দেশটির সামরিক, বিচার ব্যবস্থা, নিরাপত্তা বাহিনী ও বিদেশ নীতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং দেশটির ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ক্ষমতার সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের গঠনতান্ত্রিক পর্যায়ে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। দেশটির বিশেষ সংস্থা “এক্সপার্টস অ্যাসেম্বলি” একটি নতুন নেতা নির্বাচন করবে, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তা দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো খুবই জটিল বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হতে পারে এবং বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বৃদ্ধি পেতে পারে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি
আঞ্চলিক কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যেই ইরানের প্রতিক্রিয়ার তীব্র নিন্দা করেছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই হামলা এবং খামেনির মৃত্যুর পর মধ্যপ্রাচ্যে আতঙ্ক, রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের ভেতরে রাজনৈতিক সংকট ও নেতৃত্বের অভাবে এলাকায় আরও বড় সংঘাত বা দীর্ঘমেয়াদী অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হতে পারে।

