নরসিংদীর মাধবদীতে একটি ফসলের খেত থেকে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় গভীর ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে না।
বৃহস্পতিবার সকালে মাধবদী উপজেলার বিলপাড় এলাকার একটি ফসলি জমি থেকে ১৫ বছর বয়সী আমেনা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আমেনা স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করত এবং পরিবারসহ ওই এলাকায় বসবাস করত। নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকার সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মেয়েটির গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় মরদেহ পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।”
পরিবারের অভিযোগ: আগেই ধর্ষণ, পরে হত্যার পরিকল্পনা
নিহতের পরিবার দাবি করেছে, আমেনাকে পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। নিহতের মা ফাহিমা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, তার মেয়ের সঙ্গে একই এলাকার যুবক নুরুল ইসলামের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানার পর পরিবার নুরুলকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেও সে রাজি হয়নি।
নিহতের বাবা আশরাফ হোসেন বলেন, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে নুরুল ইসলাম ও তার চার-পাঁচজন সহযোগী তার মেয়েকে বাড়ি ফেরার পথে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। তিনি বলেন, “আমরা মামলা করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তারা আমাদের হত্যার হুমকি দেয়।”
তিনি আরও বলেন, “থানায় যাওয়ার সময় পথেই আমাদের আটকানো হয়। ভয়ে তখন আমরা ফিরে আসতে বাধ্য হই।”
সালিশের অভিযোগ ও উত্ত্যক্ততার ধারাবাহিকতা
পরবর্তীতে পরিবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছে বিষয়টি জানায়। আশরাফ হোসেনের অভিযোগ, স্থানীয় এক ইউপি সদস্য সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করেছেন বলে দাবি করেন। তবে এরপরও নুরুল ইসলাম মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করতে থাকে।
তিনি বলেন, “হতাশ হয়ে আমরা মেয়েকে অন্য জায়গায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিই।”
শেষ রাতের ঘটনা
আশরাফ হোসেন জানান, বুধবার রাত প্রায় ১০টার দিকে তিনি মেয়েকে এক আত্মীয়ের বাসায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। বড়ইতলা এলাকায় নুরুল ও তার সহযোগীরা তাদের পথরোধ করে মেয়েটিকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়।
পরদিন সকালে স্থানীয়রা কাছের একটি ফসলি খেতে আমেনার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়।
পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এবাদুল্লাহ (৩৮) নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, “মূল অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। নিহতের পরিবার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।”
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ফরিদা গুলশানা কবির জানান, শুক্রবার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে।
এলাকায় ক্ষোভ
ঘটনার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, মামলা করতে গিয়ে পরিবারকে বাধার মুখে পড়তে হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, ধর্ষণ ও হত্যার মতো গুরুতর অপরাধে সালিশের নামে আপস অপরাধীদের আরও সাহসী করে তোলে। তাদের মতে, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

