কাতার চ্যারিটি এক বছরে বাংলাদেশে ২৫৬টি মসজিদ নির্মাণ করেছে

ঢাকা, অক্টোবর ২০২৫ — কাতারের দাতাদের সহায়তায় ‘কাতার চ্যারিটি’ নামে একটি সংগঠন গত এক বছরে বাংলাদেশে ২৫৬টি নতুন মসজিদ নির্মাণ করেছে। জুলাই ২০২৪ থেকে জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত সময়ে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এসব মসজিদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ৫১ হাজারের বেশি মানুষ নিরাপদ ও স্থায়ী উপাসনাস্থল পেয়েছেন।

কাতারভিত্তিক দৈনিক Qatar Tribune–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, এই উদ্যোগের আওতায় তৈরি প্রতিটি মসজিদেই রয়েছে নামাজের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা, অজুখানা, আলো, ফ্যান, সাউন্ড সিস্টেম ও কার্পেটসহ অন্যান্য সুবিধা। আগে এসব অঞ্চলে অনেক মানুষ টিনের ঘর বা কাঁচা মাটির ঘরে নামাজ আদায় করতেন, যেগুলো বর্ষায় পানিতে ভেসে যেত বা গরমে অসহনীয় হয়ে উঠত।

গ্রামাঞ্চলে নতুন প্রাণ ফিরেছে

বরিশাল জেলার এক মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. বাবুল খান বলেন, “আগে আমাদের মসজিদটা ছিল ভাঙাচোরা টিনের ছাউনি। বৃষ্টিতে পানি পড়ত, গরমে টিকে থাকা যেত না। এখন কাতারের দাতাদের সহযোগিতায় আমরা একটি স্থায়ী ও সুন্দর মসজিদ পেয়েছি। সবাই আবার একসঙ্গে নামাজ পড়তে আসছেন।”

এখন এসব মসজিদ শুধু নামাজের জায়গা নয়—এগুলো হয়ে উঠেছে গ্রামের মানুষের মিলনকেন্দ্র। প্রতিদিন এখানে কুরআন শিক্ষা, শিশুদের ধর্মীয় পাঠ এবং বিভিন্ন সামাজিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ফরিদপুর জেলার মসজিদ কমিটির সম্পাদক আবুল আলী বলেন, “এটা শুধু একটা ভবন নয়—আমাদের গ্রামের প্রাণকেন্দ্র হয়ে গেছে। আগে জায়গা ছিল না, এখন নামাজের পাশাপাশি বাচ্চাদের পড়ানো যায়, যুবকদের নিয়ে আলোচনা সভা করা যায়।”

স্থানীয় প্রশাসনের প্রশংসা

স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারাও উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। বরিশালের সরকারি কর্মকর্তা মো. শহীদাত হোসেন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে গ্রামাঞ্চলে স্থায়ী উপাসনাস্থলের প্রয়োজন ছিল। কাতার চ্যারিটির উদ্যোগ সেই চাহিদা পূরণ করেছে। এতে ধর্মীয় ও সামাজিক উভয় দিকেই ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।”

সংগঠনটির বাংলাদেশ অফিসের কান্ট্রি ডিরেক্টর জাকারিয়া আলি আল মোতাইর জানান, তাদের লক্ষ্য ছিল স্থানীয় মানুষের জন্য স্থায়ী ও সম্মানজনক উপাসনাস্থল তৈরি করা।

“আমরা বিশ্বাস করি, এই মসজিদগুলো আগামী প্রজন্মের জন্য শান্তি, ঐক্য ও সঠিক দিকনির্দেশনার কেন্দ্র হয়ে থাকবে,” বলেন তিনি।

দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ

গত পাঁচ বছরে কাতার চ্যারিটি বাংলাদেশে ৬০০টিরও বেশি মসজিদ নির্মাণ করেছে। এসব মসজিদ থেকে দেশের প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। সংস্থাটি শুধু ধর্মীয় অবকাঠামো নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পেও কাজ করছে।

নতুন এই ২৫৬টি মসজিদ মূলত বাংলাদেশের গ্রাম ও উপজেলা পর্যায়ের সেই এলাকাগুলোতে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে আগে নিরাপদ উপাসনাস্থল ছিল না। প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু স্থাপনা নয়, স্থানীয় মানুষের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

spot_img