Wednesday, October 14, 2026 | Social Circle |
| Social Circle
the VOICE News
DIPLOMACY, POLITICS, AND POLICY — UP CLOSE

সময় টেলিভিশনে চাকরিচ্যুতি নিয়ে অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি সাবেক কর্মীর

- October 14, 2026, 05:01 PM ET

নিজস্ব প্রতিবেদক
সময় টেলিভিশনের ডিজিটাল বিভাগে চাকরিচ্যুতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত বিরোধ, কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা এবং নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন প্রতিষ্ঠানটির ডিজিটাল বিভাগের সাবেক কর্মী ওসমান। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের প্রতিকূল সময়ে দায়িত্ব পালন করার পরও একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে চাকরিচ্যুত করা হয়। এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধের কোনো প্রভাব ছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের সময় সময় টেলিভিশন নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। ওই সময় ব্যক্তিগত ঝুঁকি উপেক্ষা করেও তিনি প্রতিষ্ঠানের পাশে ছিলেন বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা ও আক্রমণের পরিস্থিতি তৈরি হলে তিনি সাধ্যমতো ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর কাছে সময় টেলিভিশন কেবল একটি কর্মস্থল নয়; বরং দীর্ঘদিনের শ্রম, আবেগ ও আত্মনিবেদনের সঙ্গে জড়িত একটি প্রতিষ্ঠান।
সাবেক এই কর্মীর দাবি, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে অনেক কর্মী বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে প্রতিষ্ঠান ছেড়ে গেলেও তিনিসহ আরো কয়েকজন সহকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থেকে ডিজিটাল বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে চাকরিচ্যুতির ঘটনায় তিনি হতাশ এবং কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
ডিজিটাল বিভাগের কর্মপরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন
ডিজিটাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাদাফের আচরণ ও বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিযোগকারী দাবি করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পুরোনো কর্মীদের মধ্যে চাকরি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন সভায় জ্যেষ্ঠ কর্মীদের উদ্দেশে সাদাফ বলেন, “আপনাদের ভালো না লাগলে চলে যান, আপনাদের জন্য সময় টেলিভিশনের দরজা খোলা আছে।”
সাবেক কর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের বক্তব্যের কারণে ডিজিটাল বিভাগের কর্মীদের মধ্যে মানসিক চাপ ও চাকরি হারানোর ভীতি তৈরি হয়েছে। এতে কর্মীদের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ এবং কাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে তাঁর দাবি। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানা সম্ভব হবে।
নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ
বিভাগে ধারাবাহিকভাবে নতুন কর্মী নিয়োগ এবং কয়েকজন নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন ওঠার কথাও উল্লেখ করেছেন ডিজিটাল বিভাগের সাবেক এই সদস্য। তাঁর অভিযোগ, শিউলি রায় তমার ভাই সুজস রায়কে সময় টেলিভিশনের ডিজিটাল বিভাগে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভাগের অভ্যন্তরে অস্বস্তি তৈরি হয়।
অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, সুজস রায়কে ঘিরে তৎকালীন ইনচার্জ সেলিম আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সুজস রায় সেলিম আহমেদের গায়ে হাত তোলার চেষ্টা করেন বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ওই সময় সহকর্মীরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং পরবর্তী সময়েও একই ধরনের আচরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
ব্যক্তিগত বিরোধের অভিযোগ
সাবেক কর্মী আরও দাবি করেন, সাদাফ ও শিউলি রায় তমার কক্সবাজার ভ্রমণসংক্রান্ত কিছু তথ্য একপর্যায়ে অফিসের একাধিক ব্যক্তির কাছে পৌঁছায়। ভ্রমণ ও অবস্থানসংক্রান্ত কিছু তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে বলে তাঁর ভাষ্য। অভিযোগকারীর দাবি, এসব তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় সাদাফ কোনো প্রমাণ ছাড়াই কয়েকজনকে দায়ী করেন।
তাঁর ধারণা, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাদাফের সঙ্গে ব্যক্তিগত বিরোধ আরও বেড়ে যায়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে তাঁর কাজের ভুল খোঁজা এবং তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
কারণ দর্শানোর নোটিশের পর চাকরিচ্যুতি
অভিযোগকারীর দাবি, তুলনামূলক ছোট একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগেও তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় তাঁর দীর্ঘদিনের কর্মজীবন, প্রতিষ্ঠানের সংকটকালীন সময়ে ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি, শুধুমাত্র সাদাফের একক সিদ্ধান্তে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
তাঁর মতে, কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে অভিযোগের গুরুত্ব, প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীর বক্তব্য নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি।
নিরপেক্ষ তদন্ত ও সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি
চাকরিচ্যুতির পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধের প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ করেছেন ডিজিটাল বিভাগের সাবেক এই সদস্য। এ জন্য সময় টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি মানবিক ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে পুনর্মূল্যায়ন এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলোর যথাযথ তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগকারীর বক্তব্য, সময় টেলিভিশনের ক্ষতি করা তাঁর উদ্দেশ্য নয়। বরং প্রতিষ্ঠানের প্রতি দীর্ঘদিনের আবেগ, শ্রম ও দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি বিষয়টি সামনে এনেছেন। তাঁর প্রত্যাশা, কর্তৃপক্ষ ব্যক্তিগত বিরোধের ঊর্ধ্বে উঠে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য শুনবে, অভিযোগগুলো যাচাই করবে এবং ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

COMMENTS

Scroll to Top