সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু তীক্ষ্ণ ও কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এমদাদ চৌধুরী, মিজানুর রহমান চৌধুরী ও সাখাওয়াত চঞ্চলের মতো বাংলাদেশী-আমেরিকান নাগরিকরা তাঁকে সরাসরি জবাবদিহিতার আওতায় আনেন। তাঁরা কোনো শারীরিক আঘাত বা গালিগালাজ করেননি, এমনকি তাঁর সাথে থাকা লামিয়া মোরশেদের প্রতিও কোনো অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়নি। শুধুমাত্র গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে তাঁরা প্রশ্ন তোলেন—পুলিশ হত্যা, লক্ষাধিক মানুষকে কারাগারে নিক্ষেপ এবং গণতন্ত্র ধ্বংসের পেছনে তাঁর ভূমিকা কী? একজন সন্ত্রাসী মনোভাবাপন্ন শাসক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর আসার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
একজন রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানকে প্রশ্নের মুখোমুখি করা যেকোনো গণতান্ত্রিক দেশেই এক সাধারণ ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হলো তাদের সংবিধানের ‘ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট’ বা প্রথম সংশোধনী, যা প্রতিটা নাগরিককে বাক-স্বাধীনতা প্রদান করে। অথচ, যুক্তরাষ্ট্রে বসে এই স্বাধীনতার চর্চাকে দমন করতে বাংলাদেশ সরকার মার্কিন মিশনে চিঠি পাঠিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে।
সেই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে তথাকথিত ‘নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ’-এর কথা। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, বাংলাদেশের কোনো আইনে কবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হলো? আমরা জানি দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত বা নিষিদ্ধের কথা বলা হয়েছিল, তবে যুক্তরাস্ট্রের মাটিতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক তৎপরতা নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা বাংলাদেশ সরকারের নেই। বিদেশের মাটিতে অন্য দেশের নাগরিকদের বাক-স্বাধীনতা হরণ করার এই আইনি চক্রান্তই প্রমাণ করে—বর্তমান সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘনে কতটা মরিয়া ও স্বৈরাচারী রূপ ধারণ করেছে।
দেশবাসীর মনে প্রশ্ন জেগেছে, কেন এবার ইউনূসকে উপযুক্ত শাস্তির মুখে পড়তে হলো না? লাখ লাখ মানুষ আশাহত হলেও সত্য এটাই যে, ভবিষ্যতে যেখানেই তিনি যাবেন, সেখানেই তাঁকে এমন চরম জবাবদিহিতার মুখে পড়তে হবে।
যারা আজ বলছেন বিদেশের মাটিতে ইউনূসকে প্রশ্ন করে আওয়ামী লীগ ‘ভুল’ করেছে, তাদের কাছে প্রশ্ন—ড. ইউনূস যখন দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিলেন, ইতিহাস ও স্থাপনা ধ্বংস করলেন এবং ৩২ নম্বর ভাঙচুর ও লুটপাটে মদদ দিলেন, তখন আপনাদের কলমের কালি কোথায় ছিল? আজ যখন দেশের ভাবমূর্তি নষ্টের দোহাই দেওয়া হচ্ছে, তখন মনে রাখা দরকার—‘ছাল নেই কুকুরের আবার বাঘা নাম’। প্রকৃতপক্ষে ড. ইউনূসের মতো স্বৈরশাসকদের কারণেই বিশ্বদরবারে আজ বাংলাদেশ এক নৈরাজ্যবাদী সন্ত্রাসী হাব হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
প্রবাসী ও দেশপ্রেমিক বাঙালিরা বার্তা পরিষ্কার করে দিয়েছে: যে প্রান্তেই ইউনূসকে পাওয়া যাবে, দেশের মানুষের ওপর চালানো অত্যাচারের বিরুদ্ধে ঠিক এভাবেই রুখে দাঁড়ানো হবে।
দস্তগীর জাহাঙ্গীর সম্পাদক the Voice

COMMENTS