সাবেক সেনাপ্রধান হারুনের মরদেহ চট্টগ্রাম ক্লাব থেকে উদ্ধার

ডেসটিনি মামলার শুনানির আগেই মিললো মরদেহ, হৃদরোগে মৃত্যু বলে ধারণা। মরনোত্তর চক্ষুদান করে গেছেন লে: জে: হারুন

দ্য ভয়েস নিউজ ডেস্ক
ঢাকা, ৪ আগস্ট ২০২৫

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এম হারুন-অর-রশীদ বীর প্রতীক-এর মরদেহ চট্টগ্রাম ক্লাবের গেস্ট হাউজের একটি কক্ষ থেকে সোমবার উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মো. আলমগীর হোসেন জানান, “সকাল থেকে ফোনে সাড়া না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা এবং ক্লাব কর্তৃপক্ষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে পেছনের জানালার গ্লাস ভেঙে ভেতরে ঢুকে বিছানায় নিথর অবস্থায় পাওয়া যায় তাকে।”

চট্টগ্রাম ক্লাবের সেক্রেটারি অবসরপ্রাপ্ত কমান্ডার মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, “সকালে সেনাবাহিনীর একটি গাড়ি তাকে নিতে আসে। কিন্তু ফোনে না পেয়ে আমাদের জানানো হয়। পরে আমরা পেছনের দরজা দিয়ে প্রবেশ করে দেখি উনি মারা গেছেন।”

হারুন-অর-রশীদ রবিবার বিকেলে রাজধানী ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসেন ডেসটিনি গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট একটি মামলার শুনানিতে অংশ নিতে। সোমবার সকাল ১১টায় তার আদালতে হাজিরার সময় নির্ধারিত ছিল।

ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীন বলেন, “রাতে কথা হয়েছে। ফ্লাইটও ছিল বুক করা। এরপর কী হলো কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।”

সিএমএইচে নিয়ে যাওয়ার পর ডা. নজিবুন্নাহার সাংবাদিকদের বলেন, “তার হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মৃত্যুর আগে তিনি চোখ দানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। এতো সজ্জন মানুষ বিরল।”

১৯৪৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ধলই ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন হারুন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। অসীম সাহসিকতার জন্য ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত হন।

২০০০ সালের ২৪ ডিসেম্বর থেকে ২০০২ সালের ১৬ জুন পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ছিলেন। পরবর্তীতে তাকে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং ফিজিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

অবসরের পর ২০০৬ সালে তিনি ডেসটিনি গ্রুপে প্রেসিডেন্ট হিসেবে যোগ দেন। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ ওঠার পর ২০১২ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি পান। তবে ২০২২ সালের ১২ মে দুর্নীতি দমন কমিশনের এক মামলায় তাকে চার বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।

তিনি ছিলেন সাবেক সেনাশাসক এইচ এম এরশাদের পর দ্বিতীয় সাবেক সেনাপ্রধান যিনি কারাভোগ করেন।

হারুন-অর-রশীদ রেখে গেছেন স্ত্রী, ঢাকায় বসবাসরত মেয়ে ও অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ছেলে।

spot_img
spot_imgspot_img