যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্য সংলাপে আশার আলো: পাল্টা শুল্ক কমানোর ইঙ্গিত

ওয়াশিংটনে তৃতীয় দফা বাণিজ্য সংলাপে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি

spot_imgspot_img

ওয়াশিংটন ডিসি, ৩০ জুলাই ২০২৫:
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান তৃতীয় দফা বাণিজ্য সংলাপে বাংলাদেশের ওপর আরোপিত ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক কমানোর আশাব্যঞ্জক ইঙ্গিত মিলেছে। বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর) বাংলাদেশের অবস্থান অনুধাবন করে শুল্ক কমানোর বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে।

তবে এর জন্য বাংলাদেশকে অন্যখাতে বড় রকমের মাশুল গুণতে হবে বলে আলোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে বাংলাদেশকে অহেতুক যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানি থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কিনতে হবে। নেপথ্যের এ আলোচনায় সম্মতি জানিয়েছে মুহাম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে ৭ লাখ টন গম আমদানি এবং সয়াবিন, এলএনজি, তুলা, সামরিক যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানির শর্ত মানা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে গোপন আলোচনায় এর অতিরিক্ত কোন কোন বিষয় যুক্ত আছে তা এখন পর্যন্ত অজ্ঞাত।

বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ভোরে (২৯ জুলাই) ওয়াশিংটনে স্থানীয় সময় দুপুর ১২:৩০ থেকে বিকেল ৫:৩০ পর্যন্ত সংলাপের প্রথম দিনের আলোচনা শুরু হয়। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব নাজনীন কাউসার চৌধুরী এবং ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাসের শীর্ষ কর্মকর্তারা। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নেতৃত্ব দেন সহকারী ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ ব্রেন্ডন লিঞ্চ।

শুল্ক বিরোধের পটভূমি

চলতি বছরের ২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ৬০টি দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়। বাংলাদেশও এর মধ্যে পড়ে। ৯ এপ্রিল তা তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হলেও ৮ জুলাই আবার নতুন করে ১ আগস্ট থেকে ৩৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকরের ঘোষণা আসে। এতে করে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন ব্যবসায়ীরা।

কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও আশ্বাস

এই সংকট উত্তরণে বাংলাদেশ ২৩ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি অবস্থানপত্র জমা দেয়। সেখানে তুলে ধরা হয়—

  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি মাত্র ৬ বিলিয়ন ডলার, যেখানে ভিয়েতনামের ঘাটতি ১২৩ বিলিয়ন।
  • ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি, যার মধ্যে রয়েছে:
    • বোয়িং কোম্পানি থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনা
    • বছরে ৭ লাখ টন গম আমদানির সমঝোতা
    • সয়াবিন, এলএনজি, তুলা, সামরিক যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানি পরিকল্পনা

আশাবাদী বাংলাদেশ

বাণিজ্য সচিব বলেন,

“আমরা আশা করছি শুল্ক উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমবে। তবে নির্দিষ্ট হারে এখনও আলোচনা চলছে।”

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, বাংলাদেশের শুল্কহার ১৫ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে নির্ধারিত হতে পারে। উল্লেখযোগ্য যে, জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫%, যুক্তরাজ্যের জন্য ১০%, এবং ভিয়েতনামের জন্য ২০%।

তৃতীয় দফার আলোচনার সমাপ্তি হবে বৃহস্পতিবার। ফলাফল ইতিবাচক হলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্য প্রতিযোগিতামূলক দামে টিকে থাকতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

spot_img
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

Hot Topics

Related Articles