করিডোর বিতর্কের মাঝে আবার যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিল

দুই মাসের মধ্যে নিরাপত্তা উপদেষ্টার দ্বিতীয় সফর নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধছে।

বাংলাদেশে করিডোর ইস্যুতে তীব্র বিতর্কের মাঝে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। রাখাইন করিডোর নিয়ে বিতর্ক গাঢ় হওয়ায় এই সফরকে কেন্দ্র করে নানা প্রশ্ন উঠছে।

বিষয়টি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা, পররাস্ট্র উপদেষ্টা এবং নিরাপত্তা উপদেষ্টাসহ রাস্ট্রের কর্তা ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম কথা বলায় দেশের মধ্যে সন্দেহ ও অবিশ্বাস দানা বেঁধে উঠছে।

গত ৭ এপ্রিল খলিল জনসম্মুখে বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় রাখাইন রাজ্যে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার জন্য “মানবিক চ্যানেল” বিষয়ে আলোচনা চলছে।

কিন্তু পরবর্তীতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তৌহিদ হোসেন “সরকার নির্দিষ্ট শর্তে প্রস্তাবে সম্মত” বললেও, এর পরপরই নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখপাত্র শফিকুর রহমান বিষয়টি অস্বীকার করেন। তারা জানান, মানবিক করিডোর বিষয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি।

এরপর সেনাবাহিনীর তরফ থেকে প্রতিক্রিয়া আসে। সেনা প্রধান জেনারেল ওয়াকের-উজ-জামান বলেন, এই প্রস্তাবের সাথে সেনাবাহিনীর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এমন সিদ্ধান্ত নিতে হলে রাজনৈতিক সম্মতি থাকা প্রয়োজন।

বিতর্ক ঘনিভূত হলে দেশ ব্যাপি দারুণ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এই বাস্তবতায় সংবাদ সম্মেলন করে খলিলুর রহমান জনগণকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, করিডোর বিষয়ে কোনো চুক্তি বা আলোচনা হয়নি।

তিনি মানুষকে বোঝাতে চান, করিডোর নয়, “হিউম্যানিটারিয়ান চ্যানেল” নিয়ে কথা হয়েছিল। সরকার শুধু মিয়ানমারে খাদ্য ও ওষুধের মতো ত্রাণ সরবরাহ নিয়ে কথা বলেছে, করিডোর নয়।

সেনা প্রধানের কড়া বক্তব্য

সেনা প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সরকারকে বলেছিলেন, করিডোর সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নির্বাচিত সরকারের নেওয়া উচিত এবং বিষয়টি নিয়ে ও রাজনৈতিক ঐক্যমত্য থাকা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কখনো সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কাজে যুক্ত হবে না” এবং “জাতীয় স্বার্থই প্রথম” হওয়া উচিত।

রাজনৈতিক দলের প্রতিক্রিয়া

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই প্রস্তাবকে “গোপন সিদ্ধান্ত” এবং “অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক” বলে সমালোচনা করেছেন। তার দল বলছে এই সিদ্ধান্ত নাগরিকদের অবহিত করা হয়নি এবং কোনো ব্যাপারে জনমতের তোয়াক্কা করা হয়নি।

বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি

মানবিক ত্রাণের পিছনে রাখাইন করিডোর ইস্যুতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে এমন উদ্বেগ রয়েছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, এই প্রস্তাব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চীনবিরোধী কূটনৈতিক উদ্দেশ্যের অংশ হতে পারে। অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের অভাবে পূর্বপ্রকাশিত বক্তব্যগুলো সরকারি দৃষ্টিভঙ্গির বিভাজন প্রকাশ করেছে।

spot_img
spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles