রিজার্ভ ১৬ বিলিয়নে নেমেছে; হতাশ ব্যবসায়ী সমাজ

ইউনুস সরকারের ১ বছরে অর্থনীতির ধস বেকারত্ব, দারিদ্র্য ও দুর্নীতির অভাবনীয় বিস্তার

ডেভিড বাঙালি

২০২৪ সালের জুলাই মাসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এক ভয়াবহ মোড় নেয়। একটি স্থিতিশীল, উন্নয়নশীল অর্থনীতি ধীরে ধীরে বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যায়। ঠিক এক বছরের মাথায়, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সেই পতনের চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এক সময় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেটিই ১২ মাসের ব্যবধানে কমে ১৬ বিলিয়নের ঘরে নেমে এসেছে। এই ভয়াবহ পতন দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, আমদানি সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক সবকিছুতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। হতাশ ব্যবসায়ী মহল বলছে, এই রিজার্ভ সংকট দেশের অর্থনীতিকে অচল করে দিয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে যেখানে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৮ শতাংশ, সেখানে ২০২৫ সালের জুলাইতে তা নেমে এসেছে মাত্র ৩.২ শতাংশে। এই পতনের অর্থ হলো, উৎপাদন কমেছে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা হ্রাস পেয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ বাজার স্থবির হয়ে পড়েছে। রপ্তানি খাতে স্থবিরতা এবং বৈদেশিক বিনিয়োগে ধারাবাহিক পতনের কারণে অর্থনীতির প্রবাহ থমকে গেছে।

এই এক বছরে ৩০ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছেন। বন্ধ হয়ে গেছে শত শত উৎপাদনশীল শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এইসব কারখানা ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার পরিবার আজ পথে বসেছে। সবচেয়ে ভয়ংকর বাস্তবতা হলো, ৪০ লাখ মানুষ নতুন করে দরিদ্রসীমার নিচে চলে গেছেন, যা দেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতিকে আবার এক দশক পেছনে নিয়ে গেছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ও দুর্নীতিমূলক দিক হলো ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট থেকে উন্নয়ন খাতে ব্যয় না করে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা ইউনুস সরকার ও তার উপদেষ্টা পরিষদ আত্মসাৎ করেছে। বিভিন্ন ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ লোপাট করে, কোনো বাস্তব প্রকল্প বা অবকাঠামোগত উন্নয়ন ছাড়াই এই বিপুল অর্থ গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। এই দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে সরকারি নথি ও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি কেবল বাজেট অপচয় নয় এটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনের একটি সুপরিকল্পিত দুর্নীতির ছক। এই অর্থ লোপাটের কারণে সরকারি প্রকল্প থেমে গেছে, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অবকাঠামোসহ সবখাতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। বাজারে তার প্রভাব পড়েছে দ্রব্যমূল্যের অস্থিরতা, মুদ্রাস্ফীতি এবং জনজীবনের দুর্ভোগে।

আজ দেশের অর্থনীতি গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে। বিনিয়োগকারীরা দেশত্যাগ করছে, ব্যবসা বন্ধ হচ্ছে, শিক্ষিত তরুণেরা কর্মহীনতায় হতাশ হয়ে পড়েছে। অথচ রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যস্ত দমন-পীড়নে, জনগণের কণ্ঠরোধে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হুমকির মুখে, এবং গণতন্ত্রের আলো যেন ক্রমেই ম্লান হয়ে যাচ্ছে।

ইউনুস সরকারের মাত্র এক বছরের শাসনই প্রমাণ করেছে যে অভিজ্ঞতা ও জনআস্থাবিহীন নেতৃত্ব দেশের অর্থনীতিকে কতটা দ্রুত ধ্বংস করতে পারে। যেখানে শেখ হাসিনার দশকব্যাপী স্থিতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি রোল মডেল হয়ে উঠেছিল, সেখানে এই অপশাসনে মাত্র এক বছরেই আমরা ফিরে গেছি সংকট আর হতাশার অন্ধকারে।

এখন সময় এসেছে এই ধ্বংসাত্মক ও দুর্নীতিগ্রস্ত শাসনের বিরুদ্ধে সকল দেশপ্রেমিক নাগরিক, ব্যবসায়ী সমাজ, শ্রমিক, যুবক ও পেশাজীবীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। অর্থনীতিকে বাঁচাতে হলে, দেশকে বাঁচাতে হলে, অপশাসনের অবসান ঘটাতেই হবে।

spot_img
spot_imgspot_img