ওয়াশিংটন, জুলাই ২৫, ২০২৫ —
নিউইয়র্কের ‘স্যাংচুয়ারি সিটি’ নীতি বা অভিবাসীদের জন্য ’অভয়াশ্রয় নগরী’ নীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ একটি মামলা দায়ের করেছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বলেছে, অভিবাসন আইনের প্রয়োগে বাধা সৃষ্টির কারণে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিবিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার দায়ের করা মামলায় বলা হয়, নিউইয়র্কে প্রচলিত অভিবাসন-বান্ধব নীতির কারণে সহিংস অপরাধের ঘটনা বেড়েছে এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারে ফেডারেল সংস্থাগুলো বাধার মুখে পড়ছে।
নিউইয়র্ক সিটি দীর্ঘদিন ধরে ‘অভয়াশ্রয়’ নীতি অনুসরণ করে, যার আওতায় অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য ফেডারেল কর্তৃপক্ষকে না দেয়ার সিদ্ধান্তে অটল থেকেছে। স্থানীয় পুলিশ অভিবাসন অবস্থা বিবেচনায় এনে কোনো ব্যক্তিকে আটকের অনুমতি পায় না। এই নীতি অভিবাসীদের সুরক্ষা দিতে গৃহীত হলেও রিপাবলিকান প্রশাসনের দৃষ্টিতে এটি ফেডারেল নিয়ন্ত্রণের পরিপন্থী।
বিচার বিভাগের অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া
মামলায় যুক্ত করা হয়েছে নিউইয়র্কের বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামস, পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ, এবং অন্যান্য সিটি কর্মকর্তাদের। মামলার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ফেডারেল ডিটেইনার’ বা কেন্দ্রীয় সরকারের আটকাদেশ থাকার পরও বহু সহিংস অপরাধীকে সিটি কর্তৃপক্ষ মুক্তি দিয়েছে।
এক বিবৃতিতে মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডি বলেন, “অভয়াশ্রয় নগরী নীতির কারণে নিউইয়র্কে বহু অপরাধী নিরপরাধ জনগণের মধ্যে মুক্ত অবস্থায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। নিউইয়র্ক যদি তাদের নাগরিকদের রক্ষা করতে না পারে, আমরা করব।”
নিউইয়র্ক সিটির প্রতিক্রিয়া
নিউইয়র্ক সিটির কর্মকর্তারা এই মামলার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। তারা বলছেন, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অভিবাসনভীতির ওপর ভিত্তি করে গঠিত। মেয়র এরিক অ্যাডামস ইতিপূর্বে বলেছেন, শহর অভিবাসীদের সুরক্ষার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, কিন্তু সহিংস অপরাধীদের ক্ষেত্রে যথাযথ আইন প্রয়োগে শহর নমনীয়।
বিস্তৃত প্রেক্ষাপট ও বিতর্ক
এই ধরনের মামলাগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। আগেও ক্যালিফোর্নিয়া, ইলিনয়, এবং নিউজার্সির মতো রাজ্য ও শহরের বিরুদ্ধে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে, বেশ কিছু মামলায় আদালত সিটি বা স্টেট সরকারের পক্ষে রায় দিয়েছে।
সাংবাদিকরা বলছেন, এটি কেবল অভিবাসন আইনের প্রশ্ন নয়—বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল বনাম স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা সম্পর্কেও বড় ধরনের বিতর্ক তুলে ধরছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলা অভিবাসন-বান্ধব শহরগুলোর আইনগত ও নৈতিক অবস্থানকেও চ্যালেঞ্জ জানায়, যেখানে জনগণের নিরাপত্তা এবং মানবাধিকার একসঙ্গে বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ থাকে।

