ট্রাম্প-পাওয়েল বাকযুদ্ধ: সুদের হার, ব্যয়বৃদ্ধি ও এপস্টেইন ইস্যু ঘিরে উত্তেজনা

ফেড সদর দফতরে সংস্কার ব্যয়ের বিতর্ক এবং সুদের হার না কমানোয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষুব্ধ; পাওয়েল স্পষ্ট জবাব দিলেন

spot_imgspot_img

ওয়াশিংটন, ২৫ জুলাই ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের মধ্যে তপ্ত বাকবিতণ্ডা চাঞ্চল্যের জন্ম দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ফেডারেল রিজার্ভ সদর দফতর পরিদর্শনের সময় সুদের হার না কমানো এবং অফিস সংস্কারের অতিরিক্ত ব্যয় ঘিরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে লাইভ টেলিভিশনেও উভয়ের মধ্যে তর্ক দৃশ্যমান হয়।

এএফপি জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন সময়ে ফেড পরিদর্শনে গেলেন যখন স্বাধীন এই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর সুদের হার কমানোর চাপ বাড়ছে। তবে হোয়াইট হাউস এ সফরের আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

‌সংস্কার ব্যয় নিয়ে বিতর্ক

ফেডারেল সদর দফতরের সংস্কার ব্যয় প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত ছিল ১.৯ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.৫ বিলিয়ন ডলার। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি, প্রকৃত ব্যয় আরও বেশি—প্রায় ৩.১ বিলিয়ন ডলার। তিনি বলেন, “মনে হচ্ছে এটা প্রায় ৩.১ বিলিয়ন ডলার, একটু বা অনেক বেশি বেড়েছে।”

এই মন্তব্যের জবাবে ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল বলেন, প্রেসিডেন্ট ভুলভাবে পাঁচ বছর আগেই শেষ হওয়া একটি আলাদা ভবন সংস্কার ব্যয়ের অংশ হিসেবে ধরেছেন। “আপনি মার্টিন ভবনের খরচও ধরেছেন, এটি প্রকল্পে নেই,” বলেন পাওয়েল। তবে ট্রাম্প পাল্টা বলেন, “সেটিও সামগ্রিক প্রকল্পের অংশ।”

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০০৬ সালে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ফেড পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। তারপর কখনো এমনটা ঘটেনি। ট্রাম্পের এ পরিদর্শন সেই দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।

সুদের হার নিয়ে উত্তেজনা

ট্রাম্প বহুদিন ধরেই ফেডারেল ব্যাংকের নীতির সমালোচক। তিনি পাওয়েলকে একাধিকবার “লুজার” বা “পরাজিত” বলে সম্বোধন করেছেন এবং সুদের হার কমাতে দেরি করায় সরাসরি দোষারোপ করেছেন। ট্রাম্পের দাবি, “আমরা যত ভালো করছি, আরও ভালো করতাম যদি সুদের হার কম হতো।”

পাওয়েল সুদের হার ৪.৩ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছেন, যেখানে বাইডেন প্রশাসনের সময় এই হার তিনবার কমানো হয়েছিল। পাওয়েল জানিয়েছেন, ট্রাম্পের আরোপ করা নতুন আমদানি শুল্কের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছেন তারা, কারণ এসব শুল্ক মুদ্রাস্ফীতিকে প্রভাবিত করতে পারে।

এপস্টেইন বিতর্কে মনোযোগ সরাতে অভিযোগ

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সূত্রে জানা গেছে, যৌন অপরাধে অভিযুক্ত জেফরি এপস্টেইনের নথিপত্রে ট্রাম্পের নাম থাকায় বিষয়টি সামনে আসছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার আগে এই নথিপত্র প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিলেও সাত মাস পার হয়ে গেলেও তা প্রকাশ করেননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফেড সফর ও অন্যান্য কৌশলগত আক্রমণের পেছনে এই বিতর্ক থেকে জনমনোযোগ সরানোর চেষ্টাও থাকতে পারে।

‘গঠনমূলক আলোচনা’ হলেও উত্তেজনা স্পষ্ট

যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরে দাবি করেন, তাদের মধ্যে “গঠনমূলক আলোচনা” হয়েছে এবং “উত্তেজনা ছিল না,” তবে সংবাদমাধ্যম এনপিআর, সিএনএন ও ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয়, প্রেসিডেন্ট ও চেয়ারম্যানের মধ্যে সম্পর্ক এখনো তীব্র চাপের মধ্যে রয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ তার স্বাধীন নীতিনির্ধারণের জন্য পরিচিত। সাধারণত প্রেসিডেন্টরা এর পরিচালনায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন না। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের বারবার সমালোচনা ও চাপ একে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

spot_img
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

Hot Topics

Related Articles