নিষ্পাপ হাসির আড়ালে নির্মম নৃশংসতা: আর কত ঝরবে ফুল, কবে মিলবে বিচার?

Date:

একটি ছবি, নয়টি নিষ্পাপ মুখ। আছিয়া, তায়েবা, সায়মা, ময়না আক্তার, ফাহিমা, রামিশা, দোলা, আয়েশা এবং তাহাতি—এরা কেবল কিছু নাম কিংবা সাদা-কালো স্থিরচিত্র নয়; এরা ছিল আমাদের সমাজের একেকটি ফুটন্ত ফুল।

যাদের বুকভরা স্বপ্ন আর অনাবিল আনন্দ নিয়ে বেঁচে থাকার কথা ছিল, তাদের অকালেই ঝরিয়ে দেওয়া হয়েছে চরম পাশবিকতা, ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে। এই অবুঝ শিশুদের এমন করুণ ও অবর্ণনীয় পরিণতি আজ পুরো সমাজ, রাষ্ট্র এবং মানবতাবোধের বিবেককে এক বড় প্রশ্নের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

কোনো সভ্য সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা এভাবে ভূলুণ্ঠিত হতে পারে না। যে বয়সে এই শিশুদের হাতে বই-খাতা থাকার কথা ছিল, শৈশবের ডানপিটেপনায় মেতে থাকার কথা ছিল, সেই বয়সে তাদের শিকার হতে হয়েছে একদল নরপশুর হিংস্র লালসার। এটি কেবল একক কোনো অপরাধ নয়, এটি গোটা মানবসভ্যতার বুকে এক গভীর ক্ষত।
“প্রতিটি শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।

কিন্তু যখন একের পর এক নিষ্পাপ প্রাণ এভাবে ঝরে যায়, তখন বুঝতে হবে আমাদের সামাজিক নৈতিকতা এবং সুরক্ষাবলয় কতটা ভেঙে পড়েছে।

প্রশ্ন জাগে, আমাদের বিচার ব্যবস্থা এবং সামাজিক প্রতিরোধ আজ কোথায় গিয়ে থমকে দাঁড়িয়েছে? প্রতিটি এমন ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ, প্রতিবাদ এবং বিচারের দাবি উঠলেও, সময়ের ব্যবধানে একসময় তা স্তিমিত হয়ে পড়ে।

বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, আইনি ফাঁকফোকর আর অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া কি এই অপরাধীদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে না? বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি যদি বজায় থাকে, তবে আগামী প্রজন্মের জন্য আমরা কেমন সমাজ রেখে যাচ্ছি?
আমরা আর কোনো মায়ের কোল খালি দেখতে চাই না।

আমরা চাই না আর কোনো নিষ্পাপ শিশুর ছবি এভাবে নির্মমতার শিকার হয়ে দেয়ালে কিংবা স্ক্রিনে ভেসে উঠুক। আছিয়া, সায়েমা, ফাহিমাদের মতো আমাদের এই সন্তানদের নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।
কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাব যেন এই বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচার বিভাগ এবং সচেতন নাগরিক সমাজ—সবার কাছে আমাদের আকুল আবেদন, এই প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সম্পন্ন করে অপরাধীদের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করুন।

এই নিষ্পাপ আত্মাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে এবং শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য সমাজ গড়তে আমাদের আজ দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে আওয়াজ তুলতে হবে: “আর কোনো নির্মমতা নয়, অবিলম্বে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”

হুরায়রা আহমেদ নাঈম
আইটি অ্যাসোসিয়েট, দ্য ভয়েস নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Share post:

spot_imgspot_img

Popular

More like this
Related

বন্যায় ৪৪ মৃত্যু, পানিবন্দী ১০ লক্ষাধিক, অবহেলায় বিপন্ন মানুষ

দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশের সাত জেলার মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসার তীব্র সংকট।

সহিংসতা ও মানবাধিকার সংকটে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ

এইচআরএসএসের জুন ২০২৬ প্রতিবেদনে রাজনৈতিক সহিংসতা, গণপিটুনি, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাংবাদিক ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং ব্যাপক গ্রেপ্তারের উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।

টানা বর্ষণে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে ভূমিধস, নিহত ৯

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে টানা বর্ষণে সৃষ্ট ভূমিধসে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিচ্ছে, আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

ফরিদপুরে ডিবি হেফাজতে আইন শিক্ষার্থীর মৃত্যু: পুলিশের বর্ণনায় মিলছে না নানা তথ্য

ফরিদপুরে ডিবি হেফাজতে ২৪ বছর বয়সী আইন শিক্ষার্থী ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্তের মৃত্যুকে ঘিরে ডিবির দেওয়া তথ্যে একাধিক অসংগতি মিলেছে। মারধর ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ এনেছে নিহতের পরিবার।