সুইন্ডনে দুর্গাপূজা: বাঙালি সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়ের মহোৎসব

Date:

যুক্তরাজ্যের সুইন্ডন শহরে এবারের দুর্গাপূজার আয়োজন করেছে সুইন্ডন বেঙ্গলি কালচারাল সোসাইটি। হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে আয়োজিত এই পূজায় শুধু হিন্দু সম্প্রদায় নয়, বরং সব ধর্ম ও পেশার মানুষকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আয়োজকরা বলছেন, এটি হবে একসাথে ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক মিলনমেলা।

শুভারম্ভ মহালয়ার মাধ্যমে

উৎসবের সূচনা হবে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টায় সুইন্ডন হিন্দু মন্দিরে (চাট ক্যাফের উপরের তলায়, রিজেন্ট সার্কাসে)। সেদিন মহালয়ার মাধ্যমে দেবী দুর্গার আগমন বার্তা দেওয়া হবে। ভক্তরা পূর্বপুরুষের উদ্দেশ্যে জল ও অন্ন নিবেদন করে তর্পণ করবেন এবং বিদ্যার দেবী সরস্বতীর কাছে প্রার্থনা জানাবেন।

পূজার ধারা ও বিশেষ আয়োজন

উৎসবের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে। রিজেন্ট স্ট্রিটের ভেন্যু–৩-তে সন্ধ্যা ৯টায় মহাষষ্ঠী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ভক্তদের মধ্যে পরিবেশন করা হবে নিরামিষ প্রসাদ।

২৯ সেপ্টেম্বর মহাসপ্তমী উপলক্ষে বিকেল ৫টায় থাকবে বিশেষ ধর্মীয় আলোচনা—“দেবী পূজার তাৎপর্য”। আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বামী সর্বস্থানন্দজি মহারাজ (রামকৃষ্ণ ভেদান্ত সেন্টার, লন্ডন) এবং স্বামী জ্ঞানলোকানন্দজি মহারাজ (রামকৃষ্ণ মিশন, কলকাতা)।

পরে ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হবে মহাষ্টমী, মহানবমী ও বিজয়া দশমী। প্রতিদিন সকাল ১০টায় শুরু হবে পূজা, দুপুর ১টায় পুষ্পাঞ্জলি, দুপুর ২টায় প্রসাদ বিতরণ এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সংগীত ও নৃত্যের এই আয়োজনের পর রাত ৯টায় আবারও পরিবেশন করা হবে প্রসাদ।

ঐক্যের বার্তা

আয়োজক কমিটির সদস্যরা—সুমন রায়, অভিজিৎ দেবনাথ, রিমন সাহা, জগন্নাথ সাহা, রণজিৎ সাহা, বিপ্লব দাস, রিপন সাহা, সঞ্জীব দাস, অমিত চৌধুরী, প্রিয়া লাল ও অম্লান ভৌমিক—এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন,
“মা দুর্গার আশীর্বাদ প্রার্থনা করতে, আমাদের ঐতিহ্যকে ধারণ করতে এবং সম্প্রদায়ের উষ্ণতা ভাগ করে নিতে সবাইকে আমরা আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।”

তারা বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন কাউন্সিলর আব্দুল আমিনের প্রতি, যিনি লালবাগ রেস্টুরেন্টে তহবিল সংগ্রহ ডিনারের আয়োজন করতে সহায়তা করেছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন, সুইন্ডন হিন্দু মন্দির ও সুইন্ডন পূজা কমিটির উপদেষ্টাদেরও ধন্যবাদ জানান সহযোগিতার জন্য।

সংস্কৃতি ও সমাজের সেতুবন্ধন

প্রতিবছরের মতো এ বছরও দুর্গাপূজা হবে সুইন্ডনের বাঙালি সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শুধু পূজা নয়, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ঐতিহ্য ধরে রাখা, নতুন প্রজন্মকে বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করানো এবং ভিন্ন ধর্ম-বর্ণের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য গড়ে তোলাই এ উৎসবের লক্ষ্য।

আয়োজকদের ভাষায়, “পরিবার-পরিজন নিয়ে আসুন, অংশ নিন এই ঐতিহাসিক ও হৃদয়স্পর্শী আয়োজনে। একসাথে এই শুরুটাকে স্মরণীয় করে তুলি।” 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Share post:

spot_imgspot_img

Popular

More like this
Related

বন্যায় ৪৪ মৃত্যু, পানিবন্দী ১০ লক্ষাধিক, অবহেলায় বিপন্ন মানুষ

দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশের সাত জেলার মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসার তীব্র সংকট।

সহিংসতা ও মানবাধিকার সংকটে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ

এইচআরএসএসের জুন ২০২৬ প্রতিবেদনে রাজনৈতিক সহিংসতা, গণপিটুনি, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাংবাদিক ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং ব্যাপক গ্রেপ্তারের উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।

টানা বর্ষণে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে ভূমিধস, নিহত ৯

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে টানা বর্ষণে সৃষ্ট ভূমিধসে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিচ্ছে, আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

ফরিদপুরে ডিবি হেফাজতে আইন শিক্ষার্থীর মৃত্যু: পুলিশের বর্ণনায় মিলছে না নানা তথ্য

ফরিদপুরে ডিবি হেফাজতে ২৪ বছর বয়সী আইন শিক্ষার্থী ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্তের মৃত্যুকে ঘিরে ডিবির দেওয়া তথ্যে একাধিক অসংগতি মিলেছে। মারধর ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ এনেছে নিহতের পরিবার।